সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় তাদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় বনদস্যুরা অবস্থান করছে। পরে আজ ভোর চারটার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানিক দল ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি ও জেলে-বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
এদিকে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলমান।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।