খুলনায় দিনমজুর মো. ডালিম গাজী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার একমাত্র অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন গাইন (৩৫)। মাত্র ২০০ টাকা ধারের বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল রোববার আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত শনিবার দুপুরে মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত জয়নাল আবেদীন সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জগদীশকাটি গ্রামের কাশেম গাইনের ছেলে। ডালিম গাজীও পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হরিণটানা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউর রহমান জানান, ঘটনার দুই দিন আগে ডালিম গাজী অপর শ্রমিক জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে ২০০ টাকা ধার নেন। জয়নাল সেই টাকা ফেরত চাইলে ডালিম গড়িমসি করতে থাকেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে রাতে ডালিম ও জয়নাল দুজনেই হরিণটানা থানার জয়খালী বায়তুল মামুর মসজিদের বারান্দায় ঘুমাতে যান। সেখানেও ধারের টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে পুনরায় তর্কাতর্কি হয়। পরে উভয়েই ঘুমিয়ে পড়েন।
শেষ রাতে জয়নাল ঘুমন্ত ডালিমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেন। ডালিমের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাঁর কাছে থাকা আনুমানিক তিন থেকে চার হাজার টাকা চুরি করে জয়নাল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গত ২৪ মে সকালে জয়খালী বায়তুল মামুর মসজিদের বারান্দা থেকে ডালিম গাজীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ক্লু-লেস (রহস্যজনক) মামলার কিনারা করতে হিমশিম খাচ্ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিউর রহমান বলেন, ‘মামলাটি অত্যন্ত জটিল ছিল। আমরা কৈয়াবাজার, ডুমুরিয়া ও মোস্তর মোড়ের শ্রম বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। সেখানে ঘটনার আগের দিন ডালিম গাজীকে জয়নালের সঙ্গে দেখা যায়। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জয়নালকে শনাক্ত করা হলেও তাঁর অবস্থান জানা যাচ্ছিল না।’
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জয়নাল খুলনার শ্রম বাজারগুলো এড়িয়ে চলছিলেন এবং বাগেরহাট, ফকিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে দিনমজুরের কাজ করছিলেন। গত শনিবার তিনি ছদ্মবেশে কৈয়াবাজারে কাজ খুঁজতে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশি হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল ডালিম গাজীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় গতকাল দুপুরে তাঁকে খুলনা আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের বিচারক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জয়নাল আবেদীনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডে আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।