কেসিসি প্রশাসকের সভা
খুলনা মহানগরীর যানজট নিরসনকল্পে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং অটোরিকশার মালিক ও চালক সমিতির নেতাদের সঙ্গে সভা করেছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গতকাল সোমবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে এ সভা হয়।
সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস ও ট্রাকগুলোকে স্ট্যান্ডের মধ্যে রাখতে বাধ্য করা, নির্মাণসামগ্রী সড়কে না রাখা, ব্যবসায়ী কর্তৃক দোকানের সামনে সড়কের ওপর পণ্য রাখতে না দেওয়া, সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্ক না করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য স্ট্যান্ড নির্মাণ ও হকারদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অননুমোদিত ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ও রিকশা; সড়ক বিভাজকে (ডিভাইডার) ঘন ঘন ইউটার্ন; সড়কে পর্যাপ্ত জেব্রাক্রসিং না থাকা; গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যাত্রী ওঠানামা করানো; ইজিবাইক ও রিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা; বড় বড় মার্কেট, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিজস্ব
পার্কিং স্পেস না থাকা; সড়কের ওপর গাড়ি ও বাইক পার্ক করে রাখা এবং ভ্রাম্যমাণ হকার যানজট সৃষ্টির জন্য দায়ী।
সভায় বলা হয়, নগরীতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য কেসিসি কর্তৃক প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেওয়া আছে। এ ছাড়া ১৭ হাজার রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে মাত্র ৬৮০টি। আদালতে মামলা চলমান থাকায় রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুমোদনের বাইরে অধিকাংশ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা বাইরে থেকে শহরে প্রবেশ করে। বাইরের ইজিবাইকের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘শহরে যান চলাচলের বিষয়টি আমরা সুশৃঙ্খল করতে চাই। জনগণকে একটি সুন্দর শহর উপহার দিতে হলে যানজট নিরসন করা অপরিহার্য। সামগ্রিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।’ এতে কেউ স্বল্প ক্ষতির সম্মুখীন হলেও জনস্বার্থে তা মেনে নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এতে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা
রহিমা সুলতানা বুশরা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, কেএমপির ডিসি (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলাম, এডিসি (ট্রাফিক) মো. ছয়রুদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।