খুলনার কয়রায় রাতের আঁধারে মাটির ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৩৭) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রীও।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য মহেশ্বরীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ভবতোষ মৃধা স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং একই ইউনিয়নের গিলাবাড়ি বাজারে তাঁর একটি ওষুধের দোকান রয়েছে।
স্থানীয় ও ইউপি সদস্য সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভবতোষ মৃধার মাটির ঘরের সিঁধ (দেয়াল কেটে গর্ত করা) কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে চোর ঢোকার শব্দ পেয়ে ভবতোষ জেগে ওঠেন এবং তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্বামীর চিৎকার শুনে স্ত্রী ছুটে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকেও কুপিয়ে ও গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ছুটে আসেন এবং তাঁদের রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ‘ভবতোষ এলাকায় অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।