ঢাকার মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ নিম্নমানের বলে ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় ২০ এপ্রিলের মধ্যে মেহেরপুরের বাজার থেকে এই লবণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল রোববার দুপুরে মেহেরপুরের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ ওই আদেশ দেন। এই ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আদালতে ২৩ মার্চ মামলা করেন জেলার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।
৩০ জানুয়ারি ঢাকার মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিম্নমানের বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর আগে ২০১৯ সালের ১৪ মে মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে নিম্নমানের বলে প্রকাশ পায়।
মামলা থেকে জানা গেছে, মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ নিম্নমানের অভিযোগ ওঠার পর বাজার থেকে এর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ১ জানুয়ারি লবণের নমুনা পাঠানো হয় ঢাকার মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই লবণ নিম্নমান হওয়ার সত্যতা পান সংশ্লিষ্টরা।
ওই ঘটনায় ২৩ মার্চ নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ-খুলনা ফুলতলার ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দীন ও মেহেরপুরের ডিলার আকবর আলীর বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করেন। মামলায় আদালত আসামিদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সমন ইস্যু করেন।
মামলা থেকে আরও জানা গেছে, মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ মানসম্মত না হওয়ায় ১০ মার্চের মধ্যে বাজারে সরবরাহ করা লবণ প্রত্যাহারের করার কথা বলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আসামিরা এখনো বাজার থেকে ওই লবণ প্রত্যাহার করেননি। এই জন্য গতকাল মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ ২০ এপ্রিলের মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। কোনোভাবেই বাজারে কোনো মানহীন পণ্য সরবরাহ করা যাবে না। সাধারণ মানুষ পণ্য কিনে যাতে প্রতারণার শিকার না হন সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’