মামলার নথি পেতে দেরি হওয়ায় খুলনায় ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার। ২০-২৫ জন আইনজীবী ও আসামিদের সামনে এ ধরনের আচরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে বিচারক আদালত ছেড়ে নিজের কক্ষে চলে যান।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে ওই বিচারক বিচারপ্রার্থীদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে আবারও বিচারালয়ে ফিরে আসেন। বিকেলে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিচারকের সঙ্গে সক্ষাৎ করেন। এ ব্যাপারে তাঁরা জানান, নিজেরা বিষয়টি ঠিক করে নেবেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালত চলাকালে বেলা ১১টার দিকে লবণচরা থানার একটি মামলার আসামি বাবু শেখের জামিন শুনানিতে অংশ নিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. ফরিদুজ্জামানের আদালতে আসেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার।
কিন্তু ওই মামলার ফাইল পাওয়া যাচ্ছিল না আদালতে। এতে ক্ষুব্ধ হন ওই আইনজীবী। বেলা দেড়টার দিকে ২০-২৫ জন আইনজীবী ও আদালত চত্বরে থাকা আসামিদের সঙ্গে নিয়ে বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আবুল হোসেন হাওলাদার। বিচারক ও আইনজীবীর মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ওই আইনজীবী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি আমার (...) ছিঁড়তে পারবেন না।’
এতে বিচারক অপমানিত হয়ে এজলাস ত্যাগ করে নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর বিচার কার্যক্রম দুই ঘণ্টার মতো বন্ধ ছিল। এতে অনেক আসামিকে বিপদে পড়তে হয়। পরে মানবিক কারণে তিনি পুনরায় আদালতে ফিরে আসেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক আইনজীবী বলেন, আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুজ্জামানের সঙ্গে অনেক খারাপ আচরণ করেছেন। এমন আচরণ সভ্য সমাজে কাম্য নয়।
জানতে চাইলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী তাপস পাল জানান, লবণচরা থানার একটি মারামারি মামলার আসামির জামিন শুনানিতে এসেছিলেন তিনি। তার ফাইল অন্য আদালতে থাকায় সেটি পরে আমাদের আদালতে আনা হয়। এর আগে আইনজীবী আদালতে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিলেন। একজন আইনজীবীর আচরণ ছিল খুবই আপত্তিকর।’
এদিকে বিকেল ৫টার দিকে আদালত চত্বরে আবুল হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, আদালতে তিনি দর্শক হিসেবে ছিলেন। আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
বিকেল ৫টার কিছুক্ষণ পর বিচারকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মাসুম রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান নান্নুসহ অন্য নেতারা। তাঁরা আধা ঘণ্টার বেশি সময় বিচারকের সঙ্গে কথা বলেন। বের হওয়ার সময় সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘এটা আমাদের নিজস্ব বিষয়। আদালতে মাঝেমধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়। এটা আমরা নিজেরা ঠিক করে নেব।’
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. ফরিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন বলে জানান।