সুন্দরবনের বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন সেখকে আটক করেছেন মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা।
রোববার দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খণ্ডের বৈধমারি বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক ইয়াসিন ঈদের সময় সুন্দরবন থেকে এসে বৈদ্যমারী বাজারসংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদে জানতে পারি বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্য ঈদের দিন রাতে সুন্দরবন থেকে এসে তাঁর বাড়িতে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের সূত্র ধরে মোংলা ও হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাঁকে আটক করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরবর্তীকালে আটককৃত বনদস্যুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চরসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি করে একটি একনলা বন্দুক, চারটি তাজা কার্তুজ ও ৪টি ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
আটককৃত বনদস্যু ইয়াছিন সেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। তিনি ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ অন্ত্র, গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ১৩ জন সদস্যসহ র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর পুনরায় সুমন তাঁর পূর্বের সদস্যদের নিয়ে আবারও দস্যুতা করার জন্য সুন্দরবনে নেমে পড়েন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে অস্ত্রসহ প্রায় ১৮-২০ জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
আটক বনদস্যু ইয়াসিন সেখ দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট সুমন বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে জেলেদের অপহরণ ও তাঁদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় এবং ডাকাতির কাজে সহযোগিতা করে আসছিলেন। জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি ও আটককৃত বনদস্যুকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের জাহাজ বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে বেশ কয়েকজন দস্যু বাহিনীর সদস্য তাঁদের দস্যুতার মাধ্যমে জেলেদের অপহরণ ও মুক্তি পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন দস্যুকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তাই সুন্দরবন দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।