খুলনায় ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে চার মাস পর তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা-২ আসনের আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন খুলনা মহানগর শাখার সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রের ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি এর প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার তাঁকে গলা ধরে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি একটি গাছের সঙ্গে আঘাত পেয়ে মাথায় গুরুতর জখম হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ এপ্রিল খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।
সে সময় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছিল, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি গুরুতর শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হবে।
ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হামলার কারণেই কচির মৃত্যু হয়েছে। তবে সে সময় জামায়াতে ইসলামীর খুলনা-২ আসনের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে মহিবুজ্জামান কচির সঙ্গে কয়েকজন ভোটারের মতবিরোধ হয়েছিল। এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক কাজী মোসতাক আহমেদ বলেন, আদালতের নির্দেশ এবং পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।