সংক্রমণ ও মৃত্যুতে প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে খুলনা বিভাগ। টানা কয়েক দিন ধরেই দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এ বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগটিতে এবার রেকর্ড রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভাগে এই প্রথম একদিনে ১ হাজার ৮৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময় বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় মৃত্যু দাঁড়াল ১ হাজার ৩০০।
এর আগে গতকাল সোমবার খুলনা বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ। আর একইদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
আজ মঙ্গলবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনায়। কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, যশোরে ছয়জন, মেহেরপুরে তিনজন, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন।
খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায়, গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৪১ হাজার ৪৭ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনার উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪৯ জনের। সে হিসাবে শনাক্তের হার ৪৩ শতাংশ। জেলা করোনায় মারা গেছেন মোট ৩২৭ জন।
এ ছাড়া বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৭ জন। এ জেলা মারা গেছেন ৯২ জন। সাতক্ষীরায় নতুন রোগী ১১৩ জন। মারা গেছেন ৭৫ জন। যশোরে নতুন রোগী ২৭৯ জন। মারা গেছেন ১৮১ জন। নড়াইলে নতুন রোগী ৭৩ জন। মারা গেছেন ৫০ জন। মাগুরায় নতুন রোগী ৪৭ জন। মারা গেছেন ৩০ জন। ঝিনাইদহে নতুন রোগী ২৩০ জন। মারা গেছেন ১০৮ জন। কুষ্টিয়ায় নতুন রোগী ৪৩১ জন। মারা গেছেন ২৭৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় নতুন রোগী ১৪০ জন। মারা গেছেন মোট ১০১ জন। মেহেরপুরে নতুন রোগী ৭৫ জন। জেলায় করোনায় মারা গেছেন মোট ৬৫ জন।
এদিকে লকডাউনের মধ্যেও সংক্রমণে এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, লকডাউন শুরু হয়েছে ২২ জুন থেকে। করোনা সংক্রমণ গ্রাম পর্যায়ে আরও আগে ছড়িয়ে পড়েছে। কমতে আরও অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে।