হতদরিদ্র পরিবারে একমাত্র কর্মক্ষম বাবা আমজেদ খাঁ। অন্যের জমিতে ধান রোপণ করেই দুবেলা খাবার জোটে। পরিবারের এমন অবস্থায় কিছু উপার্জনের আশায় ১৩ বছর বয়সেই ভ্যান চালাতে নেমে পড়েন চেচুয়া গ্রামের হাদিউজ্জামান। কিন্তু বিধি বাম।
আজ দুপুর আড়াইটায় নসিমনের ধাক্কায় ভ্যান উল্টে গুরুতর আহত হন হাদিউজ্জামান। উপজেলার সাঈদের মিল নামক স্থান থেকে পৌর সদরের দিকে আসার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সে গুরুতর জখম হলে স্থানীয়রা পাইকগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে খুলনা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।
দুর্ঘটনার সময় ভ্যানে থাকা যাত্রী ইব্রাহীম গাজি বলেন, আমি এ ভ্যানে ছিলাম। পেছনের দিক থেকে আগে ওঠার সময় কাঁচা মালবাহী একটি নছিমন ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এ সময় ভ্যান উল্টে খাদে পড়লে ভ্যান চালক তার তলায় পড়ে মাথা ফেটে যায় এবং আমিও পড়ে আমার মাথায় আঘাত লাগে।
এলাকাবাসী জানান, তার বাবা খুব গরিব। সে ধান রোপণের জন্য অন্যর ক্ষেতে গেছে। এ সময় ছেলে কিছু টাকা রোজগারের জন্য ভ্যান চালাতে এসেছে।
হাদিউজ্জামানের মা জানান, ছেলে ভ্যান চালায় ও তার পিতা কৃষি কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে সংসার চলে। ডাক্তার বলছে খুলনায় নিতে আমার কাছে কোন টাকা নেই। কী দিয়ে খুলনায় নিয়ে যাব? কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন তার অবস্থা খুবই খারাপ। এই মুহূর্তে খুলনা মেডিকেল কলেজে না নিলে শঙ্কা রয়েছে।