হোম > সারা দেশ > মেহেরপুর

গাংনীতে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত গাছিরা

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর)

ঋতুচক্রের হিসাবে শীত শুরু হবে কদিন বাদেই। প্রকৃতিতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। শীতের আগমন উপলক্ষে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেশির ভাগ গাছি। 

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতির চিত্র। অনেকে গাছ প্রস্তুত করে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ খেজুরের রস সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রিও শুরু করেছেন। আবার অল্প হলেও কিছু গাছিকে এখনো খেজুরের গাছ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। গাছিরা জানিয়েছেন, দু-এক সপ্তাহের মধ্যে গাছ থেকে পুরোদমে শুরু হবে রস সংগ্রহের কাজ। 

এখানকার খেজুরের রস থেকে তৈরি সুস্বাদু গুড় এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন জেলায়। 

তেরাইল গ্রামের খালেক আলী বলেন, শীত এলেই খেজুর রসের গুড় দিয়ে তৈরি ভাবাপিঠা, পুলিপিঠা, রসপিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। খেজুরের গুড়ের তৈরি পিঠাগুলো খেতেও খুব সুস্বাদু। 

হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মজনুল হক বলেন, শীতের সকালে রস ব্যবসায়ীরা সকাল সকাল উঠে হাঁক ছাড়েন, ‘এই রস আছে, রস’। খেজুরের রস খেতে সত্যিই সুস্বাদু। গাছিরা গাছ প্রস্তুত করছেন এখন। 

তেরাইল গ্রামের গাছি ছলেমান আলী বলেন, ‘গাছগুলো প্রস্তুত করেছি। এক সপ্তাহ পর গাছে কলস বাঁধব। শীতের শিশির যত বাড়বে, তত বেশি রস বের হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে রস সংগ্রহ শুরু হবে। ৪৫টি গাছের কাজ শেষ করেছি। এই মৌসুমে আশা করছি ভালো লাভ হবে। অনেক সময় রস বিক্রি করি। আবার এই রস দিয়ে গুড় তৈরি করেও বিক্রি করি। খেজুরের রস সুস্বাদু হওয়ার কারণে সব বয়সী মানুষের কাছে এটা অনেক জনপ্রিয়।’ 

গাছি রেজাউল ইসলাম বলেন, গাছ পরিষ্কার করা হয়ে গেছে। খেজুরের রসের চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু এখনো পর্যাপ্ত রস না পাওয়ায় দিতে পারছি না। দুই কলস রস সংগ্রহ করলে ১ কেজি গুড় তৈরি হয়। আর রস বিক্রি হয় ১ গ্লাস ১০ টাকা করে। গুড় বিক্রি হয় ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আজ যে সামান্য রস পেয়েছিলাম, তা সকালে বিক্রি করে বাড়ি চলে এসেছি। সামনের সপ্তাহ থেকে পুরোদমে রস সংগ্রহ শুরু হবে, ব্যস্ততাও বেড়ে যাবে। রস সংগ্রহ চলবে প্রায় চার মাস। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হয়। কারণ খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য কোনো খরচ হয় না। তবে ঝুঁকি নিয়ে গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহ করতে হয়।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, গাংনী উপজেলায় বেশ ভালো সংখ্যায় খেজুর গাছ আছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ। এই খেজুরের রস ও গুড় এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। আর খেজুরগাছ সাফ করে যে পাতাগুলো রাখা হয়, সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন নকশার পাটি তৈরি করা হয়। 

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, শীত মনে করিয়ে দেয় সুস্বাদু খেজুরের রস ও গুড়ের কথা। গাছিরা রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করে বেড়ান। তা ছাড়া জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও বেশি দামে বিক্রি করেন। আশা করছি এবার গাছিরা লাভবান হবেন। চাষিদের বলাও হয় জমির আইল দিয়ে কিছু খেজুরগাছ লাগাতে। গাংনী উপজেলার মাটি ভালো হওয়ার কারণে রস ও গুড় সুস্বাদু হয়।

খুলনায় এনসিপি নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ৩ জন কারাগারে

এনসিপি পরিচয়ে আ.লীগ নেতার খোঁজে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, আটক ৩

খুলনায় মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

খুলনার ৬ আসন: সর্বোচ্চ ব্যয় করবেন বিএনপির আলী আসগর লবী

দুর্যোগে বন্য প্রাণী রক্ষা করবে ‘টাইগার টিলা’

ঝিনাইদহে সেনাবাহিনীর টহলগাড়ির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, আহত ৪ সেনাসদস্য

খুলনায় নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

‘গুহা’ থেকে অপহৃত ম্যানেজার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার

দ্বিতীয় জানাজা শেষে ডাবলুর দাফন, ‘হত্যার’ বিচারের দাবি পরিবার ও নেতাদের

খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বিকুলের ভাড়া বাসা থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার