যশোরের মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টুকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। প্রতিবাদে সোমবার (১০ এপ্রিল) চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঝাঁপা ইউপি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে ডাক দেন।
একই সময় প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকেরাও পরিষদের অদূরে রাজগঞ্জ বাজারের প্রতিবাদ সমাবেশের ডাকে দেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের বাধায় দুই পক্ষের সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। মনিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তীর নেতৃত্বে যুবলীগের কয়েকজন নেতা কর্মী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টুকে লাঞ্ছিত করেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টু পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যুবলীগের কয়েকজন তাঁকে লাঞ্ছিত করেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার আমার পরিষদ চত্বরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ডাকা হয়। বিকেলে নেতা কর্মীরা পরিষদে আসার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। আমরা চেষ্টা করেও পুলিশের আপত্তির কারণে সমাবেশ করতে পারিনি।’
চেয়ারম্যান মন্টুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মন্টু চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত হয়েছে কিনা জানা নেই। কয়েক দিন আগে একটি চ্যানেলে তিনি উল্টাপাল্টা কিছু কথা বলেছেন। শুনেছি, সেটা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়েছে।’
চালুয়াহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইমরান খান পান্না বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাজে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদের আমরা যুবলীগ আজ রাজগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছিলাম। পরে প্রশাসনের অনুরোধে আমরা সমাবেশ বন্ধ করে সরে আসি।’
সোমবার বিকেলে রাজগঞ্জ অঞ্চলে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সমাবেশের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান। পরে সেখানে হাজির হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী হাসান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন।