খুলনায় ব্যবসায়ীকে মারতে গিয়ে এক ছিনতাইকারীর ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সাগর মোল্লা নামের আরেক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দিঘলিয়া থানার দেয়াড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাহিদুল ইসলাম নামের ওই ব্যবসায়ী আহত হন। তবে নিহত সাগরের পরিবারের দাবি, সাগর ছিনতাইকারী নন, বরং একজন দিনমজুর।
নিহত সাগর দেয়াড়া কলোনি পশ্চিমপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার খোকন মোল্লার ছেলে।
আহত ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম দিঘলিয়া দেয়াড়া এলাকার বাসিন্দা জাবেদ আলী শেখের ছেলে। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা গেছে, রাতে দোকান বন্ধ করে একটি ব্যাগে ৫ লাখ টাকা নিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাহিদুল ইসলাম। রাত ১টার দিকে পপুলার জুট মিলের কর্নারে পৌঁছালে তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত তাঁকে জাপটে ধরে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। দুই পক্ষের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তদের একজন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। কিন্তু গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আরেক ছিনতাইকারী সাগর মোল্লার শরীরে লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
তাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলাম রাত ১টার দিকে। তিন-চারজন ছেলে, যাদের আমি চিনি না, তারা সাইকেলের গতিরোধ করে আমাকে জাপটে ধরে। তারা আমার কাছে থাকা ব্যাগটি নিয়ে টানাটানি করছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম ইয়ার্কি করছে, কিন্তু পরে যখন বন্দুক বের করে গুলি করার কথা বলে, তখন বুঝলাম, তারা আমার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এসেছে। তাদের সঙ্গে আমার মল্লযুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে আমাকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে কী যেন বের করে মারল। তখন আমি হতবাক হয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকি। প্রচণ্ড শব্দে কোনো কিছু শুনতে পাইনি। আমার কাছে থাকা নগদ টাকার ব্যাগ ও দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে অপর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর একজনকে আমি জাপটে ধরে রাখি। পরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দেয়াড়া ঘাটে গিয়ে পরিচিত মিরাজকে ডাকি। ঘর থেকে সে বের হয়ে আসলে ঘটনাটি জানাই। রাতে নৈশপ্রহরীকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। মিরাজ সাগরকে চিনতে পারে।’
এদিকে নিহত সাগরের মা হাসিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলে সাগর দিনমজুর। রাতে সাগর ঘরে শুয়ে মোবাইলে গেম খেলছিলেন। রাত ১১টার দিকে রহমান, আলমগীর, আক্তার, সোহেল ও শাওন নামের কয়েকজন যুবক তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। একসময় তাঁদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন সাগর। পরে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পরই সাগরের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। ভোর ৫টার দিকে থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, সাগর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে থানায় যান হাসিনা বেগম। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে মারা গেছেন।
হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। তাকে এভাবে কেন মারা হলো। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। তাকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে সবকিছু বের হয়ে আসবে।’
হাসিনা বেগমের দাবি, ব্যবসায়ী তাহিদুল দুর্বৃত্তদের সদস্য। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবকিছু বের হয়ে আসবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দিঘলিয়া থানার দেয়াড়া এলাকায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমাদের থানা-পুলিশ কাজ করছে। ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’