দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলাচল এমনিতেই কঠিন। কখনো খাড়া উঁচু নিচু পাহাড়, কখনো ছড়া পেরিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে স্কুল, কলেজ, বাজার বা শহরে যেতে হয় এলাকাবাসীর। নারী, শিশু, অসুস্থদের জন্য এই পথ পার হওয়া যেন আরও কঠিন। এমনি পরিস্থিতিতে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্যাতলীইউনিয়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প।
এতে ছয়টি পাড়ার কয়েকশ মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে। আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৩০০ মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই পথ দিয়ে চলাচল করেন। যোগাযোগব্যবস্থার
সীমাবদ্ধতার কারণে এত দিন তাঁদের পানির ছড়া পার হয়ে যাতায়াত করতে হতো। বর্ষাকালে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে এ দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করতো।
বিশেষ করে দুল্যাতলী হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। নতুন বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল সহজ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সাঁকোটি দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে ।
দুল্যাতলী ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে এবং প্রয়োজনের তাগিদে বাজার কিংবা অফিসে যারা আসেন, তাদের এখন আর পানিতে ভিজে আসতে হবে না।’
দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ের অজ পাড়া গাঁয়ের মানুষগুলো অনেক কষ্ট করে ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত
করে। সেনাবাহিনী এই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দেওয়ায় স্থানীয়দের অনেক উপকার হয়েছে।’