জয়পুরহাটের কালাইয়ে কোল্ডস্টোরেজে (হিমাগার) আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
রোববার দুপুরে কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘উপজেলা ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন আলু’র (পার্টনার প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত আলুচাষি ও অংশীজনদের সংগঠন) উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি এ কে এম রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপজেলার বিপুলসংখ্যক আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে তাঁরা কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আলু উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। জয়পুরহাটসহ দেশের প্রায় ৪২টি জেলায় ব্যাপক হারে আলুর উৎপাদন হয়। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁরা বছরের পর বছর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আলু একটি পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই সুযোগে কোল্ডস্টোরেজ মালিকেরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিবছর অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে প্রতি বস্তা (৬০-৬৫ কেজি) আলুর হিমাগার ভাড়া ছিল ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছে। তবে ২০২৫ সালে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন কেজিপ্রতি ৮ টাকা বা ৬৫ কেজির প্রতি বস্তার জন্য ৫২০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
চাষিদের দাবি, প্রতিবাদের মুখে কিছু হিমাগারে ভাড়া কমিয়ে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা করা হলেও অধিকাংশ স্থানে এখনো বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণের প্রকৃত ব্যয় কেজিপ্রতি ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৪ টাকা। কিন্তু অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মালিকপক্ষ কৃষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এতে কৃষক ও হিমাগার মালিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও বিরোধ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের সভাপতি এ কে এম রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে কোল্ডস্টোরেজ পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় নিরূপণে তদন্ত করে কেজিপ্রতি আলু সংরক্ষণ ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীরা সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।