জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে তিনি আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমান। এ সময় তাঁর বড় ভাই দারাজ উদ্দিন, মেজ ভাই দুলাল উদ্দিন, প্রতিবেশী গাজিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক জানান, ১৫ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুজন পুরুষ ও দুই নারী অভিভাবক সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ২১ জুন বিকেলে হারুনুর রশিদসহ কয়েকজন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা নির্বাচন-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এতে তিনি আপত্তি জানালে একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ তাঁকে আঘাত করেন এবং হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপমানজনক। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি ২২ জুন আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন তাঁকে বান্দরবান বদলির হুমকি দিয়েছেন। তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কিছু অভিভাবকের আপত্তি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত বা জুতাপেটা করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
আক্কেলপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। যেহেতু ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন, বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর রহমান বলেন, ‘আমাকে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সেটি দেখা হয়নি।’