ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামে এক বাবা তাঁর মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার ঘটনায় ভোর ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ বাবা আব্দুল বারেক খানকে (৫৫) আটক করে। তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
নিহত মেহেদী হাসান শুভ খান (২৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে পরিবারের সূত্রে জহানা গেছে।
ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি মো. কবির হোসেন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান শুভ খান প্রায়ই নেশার জন্য বাবার কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বাবার কাছে ৩ লাখ টাকা চাইলে উত্তেজনা তৈরি হয়। টাকা দিতে না চাইলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি স্থানীয় আমুয়া বাজার থেকে একটি ধারালো দা কিনে এনে বাবাকে হত্যার হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রাতের দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের বারান্দায় ঘুমানোর সময় ক্ষোভ ও উত্তেজনার বশে মো. বারেক খান ধারালো দা দিয়ে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি ৯৯৯-এ ফোনকল দিয়ে পুলিশের সাহায্য চেয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
কাঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাছের রায়হান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর সার্কেল) মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান ও পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) হারান চন্দ্র পালসহ পুলিশের একটি টিম।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার করাজাপুর সার্কেল মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেহেদী হাসান শুভ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাঁর ভয়ে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে টাকা না দেওয়ায় বাবার ওপর হুমকি দেন। এ পরিস্থিতিতে রাত ৩টার দিকে বাবা বারেক দা দিয়ে ছেলে শুভকে হত্যা করেন।’