ঝালকাঠিতে একটি ভবনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঝালকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি রোড এলাকার তপন হালদারের তিনতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মলিনা রায় (৫০) ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া এবং রতন রায়ের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রতন রায় ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় মলিনা রায় তাঁর মেয়ে পূজা রায়কে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করতেন। শুক্রবার সকালে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে রথযাত্রায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ভবনের সবাই ভিমরুলী-কীর্তিপাশার উদ্দেশে যান। এ সময় ওই ভবনে মলিনা রায় একাই ছিলেন।
রাত পৌনে ৮টার দিকে তাঁরা ফিরে এসে ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন কক্ষের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে মলিনা রায়ের মেয়ে বাসার দরজা খোলা এবং ঘরের ভেতরের মালামাল ছড়ানো অবস্থায় দেখতে পান।
একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তিনি তাঁর মাকে হাত-পা বাঁধা এবং মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মলিনা রায়কে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, ‘রথযাত্রা উপলক্ষে আমরা সবাই সকালে কীর্তিপাশায় গিয়েছিলাম। রাতে ফিরে এসে দেখি নিচতলার ভাড়াটিয়া, দ্বিতীয় তলায় আমার বাসা এবং তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়ার বাসার তালা ভাঙা। ঘরের ভেতরের সবকিছু তছনছ হয়ে পড়ে আছে। পরে নিচতলার ভাড়াটিয়ার মেয়ে তাঁর মাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে আমরা ছুটে যাই।’
তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল বলেন, ‘আমরা সবাই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি নিচতলায় একজনকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমার বাসা ও বাড়িওয়ালার বাসা থেকে টাকাপয়সা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চুরি করতে এসে এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’