যশোরের মনিরামপুরে ধানখেতের আইলে জাহানারা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের সুন্দলপুর-জামলা রাস্তার পাশের একটি মাঠে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
ওই নারী উপজেলার জয়নগর গ্রামের মৃত লুৎফর বিশ্বাসের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি শ্যামকুড় ইউনিয়নের আগরহাটি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত এরশাদ বিশ্বাসের মেয়ে। ওই নারীর বাবার এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, কেউ তাঁকে হত্যা করে মরদেহ মাঠে ফেলে রেখেছে।
আগরহাটি এলাকার ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, ‘জাহানারার বাবার বাড়ি আমার এলাকায়। মনিরামপুর বাজারের পাশে জয়নগরে ওনার স্বামীর বাড়ি। সকালে মাঠে তাঁর মরদেহের খবর শুনে থানায় ফোন দিলে পুলিশ আসে।’
জাহানারার মৃত্যুর কোনো কারণ এখনো পাওয়া যায়নি। কীভাবে তাঁর মরদেহ মাঠে এল তা জানা যাচ্ছে না। তবে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ওই নারীকে মোটরসাইকেল থেকে সুন্দলপুর বাজারে নামতে দেখেছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের মেয়ে শাহিমা বলেন, ‘আড়াই বছর আগে আমার বাবা মারা গেছেন। আমরা তিন ভাইবোন। আমার শ্বশুরবাড়ি ফুলতলায়। দুই ভাই বেশ কদিন শ্বশুরবাড়ি থাকছেন। মা একা বাড়ি ছিলেন।’
শাহিমা বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। মা বলেছিল, তাঁর মোবাইলে সমস্যা হয়েছে। মোবাইল মেরামত করে সন্ধ্যায় আবার কথা বলবেন। রাতে আর কথা হয়নি। বুধবার সকালে মার মরার খবর পাইছি। আমার মাকে কেউ ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে।’
জাহানারার মা রাশিদা বেগম বলেন, ‘এক-দেড় মাস হবে মেয়ে আমাদের বাড়ি আসে না। কী করে আজ ওর লাশ এখানে এসেছে বলতে পারব না।’
এদিকে খবর পেয়ে মনিরামপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশেক সুজা মামুন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা এবং মনিরামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মনিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমেন বিশ্বাস বলেন, মৃতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কী করে তিনি মারা গেছেন জানা যাচ্ছে না।
মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, মরদেহের ব্যাপারে উপস্থিত কিছু জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।