যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের উপজেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা মামলায় একজন প্রবীণ সাংবাদিককে হয়রানি করা হচ্ছে।
আসাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো। প্রতিবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাব, শার্শা প্রেসক্লাব, প্রেসক্লাব বেনাপোল, সীমান্ত প্রেসক্লাব এবং উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরা এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না। গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, নির্যাতন কিংবা দমনমূলক কর্মকাণ্ড স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং নাগরিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংগঠনগুলো অবিলম্বে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, আসাদুজ্জামান আসাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন ওসি।
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল প্রকাশ্যে পদত্যাগ করেন। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরের পর তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন এবং বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে এবং তাঁর কোন বক্তব্যই আমলে নেয়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় বিভিন্ন মামলার আসামি ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করছে পুলিশ।