যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুয়েল আহমেদ রানা (৪০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত জুয়েল আহমেদ রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সকালে মুক্তদাহ মোড়ে জুয়েল রানার সঙ্গে প্রতিপক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের ছেলে বাবু ও সুমন, ইউসুফ, একই গ্রামের কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকালে তিনি মেয়েকে স্কুলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় তাঁর স্বামী স্থানীয় মোড়ে চা খেতে যান। হামলাকারীরা তাঁকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে তাঁর স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
তবে মায়া বেগমের এ অভিযোগ মানতে নারাজ চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ। তাঁর দাবি, স্ত্রীকে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।