ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ওই ‘বাংলাদেশিরা’ ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন।
গতকাল রোববার রাত থেকে বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জড়ো করে রাখা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফলে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, যাদের পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই ছাড়া তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ। বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা শতাধিক ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই শেষে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের খবর পাওয়া যায়। বিএসএফ তাদের পরিচয় নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
তবে বেনাপোল সীমান্তে চলমান এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তবাসীরা জানান, গতকাল রাতে সীমান্তে একটি বাগানে শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় তাঁরা বিজিবির পাশে থাকবেন।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ ১০০ থেকে ১২০ জনকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করেছে। তবে অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।