যশোরের মনিরামপুরে নাতনিকে কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার স্মরণপুর বাঁশতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইনামুল হোসেন (৪৫)। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে। ইনামুল পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
এদিকে এ ঘটনায় মনিরামপুর থানা-পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ফারাসাতপুর গ্রামের আশরাফুল, হাবিবুর, আজিজুর ও হুসাইনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে বলে নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানিয়েছেন।
মনিরামপুর-ঝিকরগাছা পাকা সড়কের স্মরণপুর গ্রামের উত্তরে সড়ক ঘেঁষা একটি খাল রয়েছে। খালের উত্তর পাড়ের ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রাম। ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন নিহত ইনামুল। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তরা তাঁর প্রতিবেশী। বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলায় হলেও মনিরামপুরের স্মরণপুর অঞ্চলে ইনামুলের চলাচল বেশি ছিল।
নিহত ইনামুলের ভাগনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ইনামুল হোসেনের এক ভাগনি নিজের নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে ফারাসাতপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন। সেই মেয়েকে কুপ্রস্তাব দেয় স্থানীয় মফিজুর রহমানের বখাটে ছেলে রাব্বি (২৩)। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ দায়িত্বশীলদের জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাব্বি। এ নিয়ে রাব্বির সঙ্গে স্কুলছাত্রীর স্বজনদের হাতাহাতি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইনামুলকে হত্যার হুমকি দেয় রাব্বি।’
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সোমবার রাত ৯টার দিকে স্মরণপুরের জামতলা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আমার মামা ইনামুল। তিনি স্মরণপুর বাঁশতলায় পৌঁছালে রাব্বিসহ ১১ জন ইনামুলের গতিরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা মামাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসক মামাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক ইনামুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘গত শনিবার মেয়েটির স্বজনেরা আমাকে এসে ঘটনাটি খুলে বলে। ওই দিন রাতে দুই পরিবারের মধ্যে এই নিয়ে গোলযোগ হয়। এর জেরে ইনামুল খুন হয়েছে।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ‘রাজমিস্ত্রি খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন রাতে লিখিত এজাহার দিয়েছেন। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে হেফাজতে এনেছি। এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি।’