ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কাল বৃহস্পতিবার। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে এ নির্বাচন আয়োজনে ইতিমধ্যে যশোরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ছয়টি আসনে ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় প্রায় ২৫ লাখ ভোটার।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রগুলোয় নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলোয় রওনা হন। সন্ধ্যার মধ্যেই সব কটি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা।
জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ৭১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ ৩০২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় একজন করে পুলিশ সদস্যের শরীরে ‘বডি ক্যামেরা’ থাকবে। আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র যশোর-৫ আসন। অর্থাৎ মনিরামপুর উপজেলা। এই আসনের ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরই যশোর-১ তথা শার্শা উপজেলার অবস্থান। এ আসনে ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ।
যশোর নির্বাচন অফিস সূত্র জানা গেছে, জেলার ছয় আসনে এবার মোট ভোটার ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ এবং নারী ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ জন। এ ছাড়া ২৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই টিমে তিনজন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকবেন।
যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানান, এবারই প্রথমবারের মতো জেলার শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোয় আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলার ছয়টি আসনে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের কাজে ১৫ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োজিত থাকবেন। যশোরের ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি ঢাকা থেকে পাঠানো আরও ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি আসনের বিপরীতে দুজন করে মোট ১২ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন।