ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আজ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিন পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সংক্ষিপ্ত করেছে ভারত সরকার। এই সময়ের মধ্যে কেবল মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াত এবং পচনশীল পণ্য পরিবহন করা যাবে।
এদিকে এই পদক্ষেপের কারণে বাণিজ্য ও ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতে যেতে না পেরে বেনাপোল বন্দরে তিন শতাধিক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছেন।
আজ সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন, কারও চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। আটকে পড়া পাসপোর্টধারীরা বলেন, ভারতে নির্বাচনের কারণে মুমূর্ষু রোগী ছাড়া অন্য পাসপোর্টধারীরা ভ্রমণ করতে পারছেন না। তাঁদের নিরাপত্তা জোরদার করা স্বাভাবিক বিষয়। তবে এমন সিদ্ধান্তের আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলে সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তেন না।
বেনাপোল আমদানি, রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, পেট্রাপোল বন্দর থেকে কেবল পচনশীল জাতীয় খাদ্যদ্রব্য আমদানি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য ঢুকছে না। টানা তিন দিন সাধারণ পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বেনাপোল বন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ সাইম আলম বলেন, ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দরে অনেক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছে। কেবল মুমূর্ষু রোগীরা যাতায়াত করতে পারছেন। আটকে পড়া পাসপোর্টধারীদের মধ্যে মেডিকেল ভিসা, বিজনেস ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসার পাসপোর্টধারীরা রয়েছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণে স্থলপথে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেন। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সপ্তাহে সাত দিনই সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভ্রমণ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ও বাণিজ্য সংক্ষিপ্ত করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।