জামালপুরের ইসলামপুরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের অদূরে ডোবার পানিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ভাসতে দেখা গেছে। ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ক্লিনিকের পাশের ডোবায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ওষুধ উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতায় বরাদ্দ করা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কয়েক মাস আগে সীমিত আকারে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে কী কারণে ক্লিনিকের সরকারি ওষুধ ডোবার পানিতে ফেলা হয়েছে, সেটা তাঁরা জানেন না।
কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীকে। তাঁরা হলেন চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. মিস্টার, স্বাস্থ্য সহকারী শারমীন জান্নাত এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধনতলা এলাকায় কুলকান্দী-বেলগাছা সড়কের পাশে ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক। ক্লিনিকের পশ্চিম পাশে একটি ডোবায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। ওষুধের গায়ে লেখা রয়েছে ‘সরকারি সরবরাহ’।
ধনতলা গ্রামের বাসিন্দা বেদেনা পারভীন বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ ছিল। খোলার পরও ওষুধ চাইলে বলা হয়, নাই। অথচ ডোবার পানিতে ওষুধ ফেলে দেওয়া হয়েছে।’
ক্লিনিকের পাশের বাড়ির মুঞ্জুরুল হক বলেন, ‘সরকারি ওষুধ কারা ডোবায় ফেলে দিয়েছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
এ বিষয়ে ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. মিস্টার বলেন, ‘আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ক্লিনিকটিতে বেশ কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সরকারি ওষুধ কারা ডোবায় ফেলে দিয়েছে, সেটা আমার জানা নেই।’
ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম এবং স্বাস্থ্য সহকারী শারমীন জান্নাত বলেন, ‘আমরা নিয়মমাফিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। ডোবায় ফেলে দেওয়া ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ দেখা গেছে। তবে ওই ওষুধগুলো এই ক্লিনিকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।’
ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এ এম আবু তাহের বলেন, ‘সরকারি ওষুধ কারা এবং কেন ডোবার পানিতে ফেলেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই ওষুধগুলো আদৌ আমাদের ক্লিনিকের জন্য বরাদ্দ কি না, তা তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।