গোপালগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে চারজনকে। আরও ১১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম আজ বুধবার এই রায় দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুর রশীদ মোল্লা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ। আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলীমুজ্জামান বিটু এবং প্রিন্স খাঁকে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিল কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ এবং শওকত শেখ।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ শেখ ও টুটুল শেখ পলাতক রয়েছেন। তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই রায় কার্যকর হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন। বাকি ১৮ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁদের সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।
২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফেরার পথে সাইদুর রহমান বাসুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। বিচার চলাকালে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।