গাজীপুরের গাছা থানা এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে মো. ওয়াসিম নামের এক নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী পা হারিয়েছেন। স্থানীয় এক ছাত্রনেতা ও তাঁর অনুসারীদের দাবি করা চাঁদা দিতে না পারায় এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসিমের স্ত্রী মুন্নী আক্তার, তাঁর মা-বাবা ও দুই সন্তান। এ সময় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ওয়াসিম জানান, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মোমিনুর রহমান তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নাজমুল, অপু, ইকবাল, ফরমান আসিফ, রনিসহ ১৮-২০ জন সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপের আঘাতে তাঁর পা গুরুতর জখম হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
ওয়াসিমের অভিযোগ, হামলার নেপথ্যের কারিগর মোমিনুর রহমান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লোকদেখানো বিচার দাবি করলেও নেপথ্যে মামলা না নিতে পুলিশকে প্ররোচিত করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রী বারবার থানায় গেলেও পুলিশ কোনো মামলা নেয়নি বা সহমর্মিতা দেখায়নি। নিরুপায় হয়ে ৮ এপ্রিল তিনি আদালতের আশ্রয় নেন এবং একটি মামলা করেন।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিবার জানায়, মামলা হওয়ার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং পরিবারটিকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীর স্ত্রী মুন্নী আক্তার বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন পঙ্গু। বৃদ্ধ শাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে আমরা চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে আছি।’ তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।