গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় তিন শিশুসন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার পর একজনকে ফোনকলে জানিয়েছেন ঘাতক। তিনি বর্তমানে পলাতক।
স্বীকারোক্তি দেওয়া ফোরকান (৪০) গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিকুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক।
নির্মম এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে। ফোরকান চার মাস ধরে স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন।
নিহতরা হলেন ঘাতক মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০) এবং তাঁদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। নিহত শারমিন গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে।
নিহত শারমিন খানমের চাচি ইভা রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ যৌতুকের জন্য খুব বেশি নির্যাতন করত ফোরকান। ধারণা করা হচ্ছে, এই কারণেই সে মাদক সেবন করে খুন করেছে। স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে খুন করে আমাদের এক আত্মীয়কে ফোন দিয়েছে সে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখি পাঁচজনকে খুন করে ফেলে গেছে।’
মনির হোসেন নামের এক স্বজন বলেন, ‘শ্যালক রসুলকে ফোন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনে ফোরকান। ডেকে এনে তাকেসহ পাঁচজনকে খুন করে। এমন ঘটনা আমরা জীবনেও দেখি নাই।’
সরেজমিন দেখা যায়, স্ত্রীকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে এবং অন্য চারজনকে বিছানায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে রক্তমাখা মরদেহ পড়ে রয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘাতক ফোরকান হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনকল করে একজনকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’