গাজীপুরের শ্রীপুরে আলহাজ উমেদ আলী উচ্চবিদ্যালয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের পদচারণ আর কলকাকলিতে মুখর থাকে স্কুল ক্যাম্পাসসহ পুরো এলাকা। অথচ এ এলাকাতেই কিনা নিজের বাসায় মাদকের কারবার চালাচ্ছিলেন সোহাগ ঢালী নামে এক ব্যক্তি। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়ে অসংখ্য কিশোরের ভবিষ্যৎ। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে সোহাগ ঢালীর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় স্থানীয় জনতা বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের আলহাজ উমেদ আলী স্কুলের পাশে মাদক কারবারি সোহাগ ঢালীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হামলার খবর পেয়ে পালিয়ে যান সোহাগ।
অভিযুক্ত মো. সোহাগ ঢালী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাঁচাহার গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন ঢালীর ছেলে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে জমি কিনে বসতবাড়ি করে সেখানেই থাকতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী উজ্জ্বল মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত সোহাগ মাদক কারবার পরিচালনা করছে। তার বসতবাড়িতে রাত-দিন শত শত মাদকাসক্তের আনাগোনা। পাশেই একটি স্কুল। স্কুলের স্বার্থে তাকে বহুবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু সে মাদক কারবার ছাড়েনি। বরং সে দাপটের সঙ্গে কারবার পরিচালনা করে আসছে। এলাকার যুবসমাজ মাদকে জড়িয়ে যাচ্ছে। শিশুরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজ স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আমরা চাই মাদকের আস্তানামুক্ত এলাকা।’
মো. রাসেল প্রধান বলেন, ‘মাদক কারবারি সোহাগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। আজ এলাকার সব মানুষ একত্রিত হয়েছে। শত শত লোকজন একত্রিত হয়ে মাদক কারবারির বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’
উমেদ আলী স্কুলের প্রতিষ্ঠা পরিচালক মো. নূরুল হক বলেন, স্কুলের পাশে মাদকের রমরমা কারবার। তিনি নিজেও প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু সোহাগ সবাইকে হুমকি দেন। দিনের বেলায় একটি কম। রাত হলে তাঁর বাড়িতে মাদকের হাট বসে।
অভিযুক্ত সোহাগ ঢালীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মাদক সেবন করে। সে মাদকাসক্ত, কিন্তু ব্যবসায়ী না। স্থানীয় কয়েকজন আশপাশের লোকজনকে উসকে দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। সন্তান নিয়ে আমাদের মাথা গোঁজার জায়গাটুকু অক্ষত রাখেনি। ঘরের সমস্ত আসবাব ভাঙচুর করে। আমার একটি ছাগল নিয়ে নেয়। সব ঘরে লুটপাট চালায়।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।