গাজীপুরের শ্রীপুরে কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে তিনটি গ্রামের বসতবাড়ি, গাছপালাসহ ফসলের মাঠ। ঝোড়ো হাওয়ায় উপড়ে গেছে বহু গাছপালা। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই গ্রামের ওপর দিয়ে এই কালবৈশাখী বয়ে গেছে। এ ছাড়া কাওরাইদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে কমবেশি ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে বসতবাড়ি ভেঙে গেছে, গবাদিপশু আহত হয়েছে। বহু কাঁঠালগাছ ভেঙে মৌসুমি ফল কাঁঠালের ক্ষতি হয়েছে। প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় পাকা ধানখেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। শাকসবজির খেত মাটিতে মিশে গেছে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক পয়েন্টে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে গেছে।
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মণ্ডল বলেন, হঠাৎ কালবৈশাখীতে বসতবাড়ির ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এই গ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে।
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক বলেন, ‘প্রায় সব গাছপালা উপড়ে গেছে। একটি গাছও দাঁড়িয়ে নেই। ঝড়ের গতি অনেক বেশি ছিল। ভয়ে নারী-শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে।’
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ খান বলেন, ‘প্রচণ্ড ঝড়ে আমাদের গ্রামে কমপক্ষে শতাধিক পয়েন্টে বৈদ্যুতিক সংযোগ তার ছিঁড়ে পড়েছে। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্রাম বিদ্যুৎহীন থাকবে বলে আশঙ্কা করছি।’
কাওরাইদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কালবৈশাখীতে বহু পয়েন্টে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। ধরে নিতে পারেন দীর্ঘ সময়ের জন্য তিনটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে। অনেক গাছপালা মেইন লাইনের ওপর। এগুলো সরিয়ে নিত অনেক সময়ের প্রয়োজন।’
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, সকালের কালবৈশাখীতে স্থানীয় কৃষকদের বোরো ধানসহ শাকসবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। মাঠকর্মীদের পাঠানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকার জন্য।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. ভূঁইয়া বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।