গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার পালেরপাড়া এলাকায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী আলম হোসেনকে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় শাশুড়ির বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা হয়েছে।
আজ শনিবার পিবিআই গাজীপুরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, গত ২৯ জুলাই স্বামীর বাসা থেকে মিম আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে বাসন থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। থানা-পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইও ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় নিহত মিমের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বাসন থানায় নিহতের স্বামী আলম হোসেন ও শাশুড়ি জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরদিন ৩০ জুলাই পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপর পিবিআইয়ের একটি দল ওই দিনই অভিযান চালিয়ে বরিশাল নগরের কোতোয়ালি থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে আলম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পিবিআই জানতে পেরেছে, মিম একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাঁর স্বামী আলম অটোরিকশাচালক। আলম মাদক ও জুয়ায় আসক্ত। এ নিয়ে তাঁদের সংসারে প্রায়ই বিরোধ হতো।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই মিম বেতনের পাঁচ হাজার টাকা ঘরের ড্রয়ারে রাখেন। ২৭ জুলাই রাতে আলম কাউকে না জানিয়ে সেই টাকা নিয়ে জুয়া খেলেন এবং পুরো টাকাই হারান। পরদিন মিম টাকা খুঁজতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলম ও তাঁর মা মিলে মিমকে মারধর করেন। পরে মিম বোনের বাড়িতে চলে গেলেও পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে আবার স্বামীর বাড়িতে ফেরেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, ২৮ জুলাই ভোর ৩টা-৪টার দিকে আলম ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত মিমের মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে হত্যা করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।