গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়, পরে শিক্ষকেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আবাসিক ওই মাদ্রাসার ছাদে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ছাদে বাউন্ডারি বা সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকায় সেখান থেকে হঠাৎ পড়ে গিয়ে ওই শিক্ষার্থী মারা যেতে পারে।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার সফিপুর এলাকার সাফিয়াতুল উম্মা ক্যাডেট মডেল মাদ্রাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) লাশ থানায় পুলিশের হেফাজতে রাখা আছে। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম আলিফ ইসলাম (১১)। সে কালিয়াকৈর উপজেলার কৌচাকুড়ি এলাকার শহীদ সাধন মিয়ার ছেলে। তার মা আমেনা বেগম ওমানপ্রবাসী। আলিফ গত ৩১ ডিসেম্বর ওই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ভর্তির পর থেকেই আলিফ মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছিল। গতকাল মঙ্গলবার সে ওমানে অবস্থানরত মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। আজ সকালে সে মাদ্রাসার ছাদে গিয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করে। এ সময় হাত ফস্কে সে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জিহাদী ফারুকি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসা থেকে পালাতে গিয়ে ওই ছাত্র ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সে মারা যায়।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, আবাসিক ওই মাদ্রাসার ছাদে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ছাদে বাউন্ডারি বা সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকায় ছাত্ররা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে সেখানে যাতায়াত করে। অসচেতনতার কারণে ছাদ থেকে পড়ে গিয়েও শিশুটি মারা যেতে পারে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, লাশ থানায় আছে। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।