হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

জলাতঙ্ক: চিকিৎসার পরও ৫ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে আহতরা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

প্রতীকী ছবি

‘আমি মরতে চাই না। আমাকে বাঁচান, প্লিজ। পুরোপুরি সুস্থ করে তুলুন আমাকে। আবারও আমি ফিরে যেতে চাই স্কুলে। খেলতে চাই এবং পড়তে চাই বান্ধবীদের সঙ্গে। সে ধরনের চিকিৎসা এবং ওষুধ দিন আমাকে।’ বাঁচার আকুতি জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এভাবে কথাগুলো বলছিল কুকুরের কামড়ে আহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধুবনি কঞ্চিবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মিতু আক্তার।

বেঁচে থাকার এই আকুতি মিতুর একার নয়, কুকুরের কামড়ে আহত সবার। মিতু বলেন, ‘আমাদের সবাইকে একই দিনে একটা কুকুর কামড়ে দিয়েছিল। চিকিৎসাও নিয়েছিলাম সবাই। এখনো ওষুধ খাচ্ছি। তারপরও এক-এক করে পাঁচজন মারা গেল। কখন জানি আমারও মৃত্যু হয়। সব সময় এই ভয়টা কাজ করছে মনের ভেতর। সে কারণে কোনো কিছুই ভালো লাগছে না আমার।’

মিতুর বাবা মুনছুর আলী বলেন, ‘বাড়ির পাশেই একজন মারা গেছেন। এই দৃশ্য দেখে মেয়েকে নিয়ে আরও বেশি ভয় হচ্ছে। কখন কী হয়ে যায় বলা যায় না। টাকার অভাবে মেয়েকে এখনো ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।’

কথা হয় আরেক আহত লাবণ্য আক্তারের বাবা খায়রুল ইসলাম লাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েসহ প্রায় ২১ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়। সবাই চিকিৎসা নিলেও ইতিমধ্যে ৫ জন মৃত্যু হয়েছে। আমার মেয়ে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি এবং আমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে খায়রুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই টাকা দেওয়া হয়নি।’

সরেজমিনে জানা গেছে, ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে একটি কুকুরের কামড়ে শিশু ও নারী-পুরুষসহ আহত হয় ২১ জন। চিকিৎসাও নিয়েছিলেন সবাই। চিকিৎসা নেওয়ার পরও পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই এলাকায়।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ পর্যবেক্ষণ, সময়মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে এমন মৃত্যুর ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তাঁরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবার দাবি জানিয়েছেন, পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ চান।

কুকুরের কামড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের নন্দ রানী, সুলতানা বেগম, ফুল মিয়া, আফরোজা বেগম ও রতনেশ্বর কুমার।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, ‘কুকুরের কামড়ে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছিল। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজন মারা গেছে। আহত অন্যরা চরম আতঙ্কে আছে।’

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ভয়ের কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করতে এবং আহতদের খোঁজ নিতে ওই এলাকায় আমরা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে কাজ করছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, ‘ওই এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়গুলো দেখছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে দিবাকর বলেন, ‘আহতদের শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু এখনো আছে কি না, সেটির পরীক্ষা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্ভব নয়।’ তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘আহত, তাদের পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসীকে সচেতন করতে প্রশাসন কাজ করছে।’

নিহত-আহত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ

এদিকে গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে কুকুরের কামড়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গাইবান্ধা প্রশাসনের তহবিল থেকে এই আর্থিক সহায়তা করা হয়।

জানা গেছে, নিহত পাঁচ পরিবারের সদস্যদের ২৫ হাজার টাকা করে এবং আহত ৯ পরিবারের সদস্যদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কুকুরের ভ্যাকসিন কিনতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে ২৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।

সাঁথিয়ায় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ

এদিকে সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, গত ১৪ ও ১৫ এপ্রিল কুকুরের কামড়ে সাতজন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা পাননি তাঁরা।

আহত ব্যক্তিরা হলেন সাঁথিয়া পৌরসভার কালাইচারা দক্ষিণ পাড়া মহল্লার মশিউরের মেয়ে মিম, মালেকের ছেলে হোসাইন, আনার খাঁর ছেলে আমিনুদ্দিন, নবাবের মেয়ে শান্তা, জোবাইদুলের মেয়ে জোবাইদা, শামীমের ছেলে শহিদুল, শরিফুলের মেয়ে শিমলা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ছুটির দিনে ভ্যাকসিন দেওয়া কার্যক্রম বন্ধ ছিল, বাকি দিনগুলো দেওয়া হতো। সেই কারণে ভুক্তভোগীরা ভ্যাকসিন পায়নি। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সপ্তাহে ৭ দিন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।’

সুন্দরগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণ, বস্তায় ২ থেকে ২২ কেজি পর্যন্ত কম

গাইবান্ধায় ধান নিয়ে হতাশ কৃষক, লোকসানের আশঙ্কা

গাইবান্ধায় সংঘর্ষে আহত যুবলীগ নেতার মৃত্যু

জলাতঙ্কে সুন্দরগঞ্জে আরও এক নারীর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

গাইবান্ধায় জলাতঙ্ক টিকার সংকট, ৩ রোগীর মৃত্যুর দায় নিচ্ছেন না কেউ

গাইবান্ধায় দলিল লেখকদের অনির্দিষ্টকালের কলমবিরতি, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ

জমি রেজিস্ট্রিতে অতিরিক্ত টাকা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

রংপুর চিনিকল: নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

দুদক পরিচয়ে প্রতারণার সময় হাতেনাতে একজন আটক

কিস্তির টাকা না পেয়ে নারী গ্রাহকের মাথা ফাটালেন কর্মী