হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

মাদকের টাকার জন্য বাবার সন্তান বিক্রি: দুই মাস পর সেই শিশু উদ্ধার, আটক ৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদকের টাকা জোগাড় করতে ১১ মাসের সন্তানকে বাবা বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই শিশুকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলো।

গতকাল রোববার শিশুটির বাবা হামিদুলকে সাদুল্লাপুর সার বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয় বাসের সহকারী মজিদকে। এরপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় মোছা. মোরশেদাকে। সবশেষে মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে রোববার রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মা রুমানা আক্তারের দাবি, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। শিশুটিকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান, এরপর আর ফেরেননি।

ঘটনার দুই দিন পর ফোনকল করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে জানা যায়, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

সন্তান নিখোঁজ থাকার সময় রুমানা থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে— কিছুই জানি না।’

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন হামিদুল। সন্তান জন্মের পর নির্যাতন বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই হামিদুল নিজের সন্তানকে বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেন, তাঁরা দরিদ্র মানুষ। হামিদুলের দাবি করা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। নাতনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। শিশুটি উদ্ধার করায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার আজ সোমবার দুপুরে বলেন, ‘আজকের পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ সুপার (এসপি) স্যারের নির্দেশনায় শিশুটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য কাজ করা শুরু করি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়সহ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’