হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ: শ্রমিক আছে কাগজে, খাল খনন চলছে যন্ত্র দিয়ে

মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

ভেকু দিয়ে চলছে খাল খননকাজ। গতকাল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের বাওনি খাল এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে খাল খনন ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে হাজারের বেশি শ্রমিক দিয়ে কাজ পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে খনন চলছে একাধিক এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনে। এতে সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকেরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারিতেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী জনগুরুত্বপূর্ণ খালসমূহ খনন, পুনঃখনন এবং খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় এই উপজেলায় দুটি খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনসহ বরাদ্দ পায়।

সূত্র জানায়, রামজীবন ইউনিয়নের ভবানীপুর ত্রাণের ব্রিজ থেকে কে কৈ কাশদহ তালেরডিটা (কালীতলা) ল্যাংগা খাল পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৫০ মিটার খাল খননের অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা আছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া শ্রীপুর ইউনিয়নের ডেলারায় মহাশ্মশান থেকে দক্ষিণ শ্রীপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত ৬ হাজার ৯০০ মিটার খাল খননের জন্য ২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই প্রকল্প মিলে ১২টি ভেকু খননের কাজ করছে। রামজীবন ইউনিয়নে ৮টি এবং শ্রীপুরে ৪টি। ২ প্রকল্পে পুরুষ-মহিলা মিলে ১ হাজার ২৬৪ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা ছিল। এর মধ্যে রামজীবন ইউনিয়নের প্রকল্পে ৬৬০ এবং শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রকল্পে ৬০৪ জন। প্রকল্প দুটি ঘুরে কোথাও কোনো শ্রমিক দেখা যায়নি। তাঁদের নাম শুধু তালিকায় দেখা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ‘শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা শুনেছি। তালিকাও করা হয়েছে। এখন দেখছি ভেকু দিয়ে খনন চলছে। কাজ যে খুব একটা ভালো হচ্ছে, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। এসব খাল খননে জনগণের কোনো উপকারে আসবে না, শুধু অফিসারের পকেট ভারী হবে।

রামজীবন ইউনিয়নের বাওনি খালের পাশের বাসিন্দা জামিরন বেগম (৬০) বলেন, ‘সাতটি ভেকু মেশিন দিয়া মাটি কাটার কাম চলছে। কোনো কামলাক কাম করতে দেখি নাই হামরা। হামরা গরিব মানুষ। হামাকগুলাক দিয়া কাম কইললে ভালোই হইলো হয়। কিন্তু গরিবের হক ওমরা এখন মারি খাইবে।’

সুনীল চন্দ্র দাশ (৯০) বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে জীবন-জীবিকার অবলম্বন এই খাল। একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ এখন অনেক কমে গেছে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’ তবে ভেকু দিয়ে খনন করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় শ্রমিকের তালিকায় নাম থাকা মো. আনিছুর রহমান, মো. আবু বক্কর সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, ‘শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মাসখানেক আগে ভোটার আইডি ও মোবাইল নাম্বার নিয়েছেন। এর বেশি কিছু জানেন না তাঁরা।’

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভেকু দিয়ে মাটি খননের কাজ চলছে। পরে শ্রমিক দিয়ে করা হবে। এখানে চারটি ভেকু কাজ করছে।’

রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামছুল হুদা সরকার বলেন, ‘আমাকে একদিন এমপি মহোদয় এবং পিআইও ডেকেছিলেন এ বিষয়ে। বলেছিলেন, শ্রমিক লাগবে মোট ৬৬০ জন। এর মধ্যে বিএনপি দেবে ১২৫, জামায়াত দেবে ১২৫, এমপি মহোদয় দেবেন ৭৫ জন শ্রমিক। বাকি ৩৩৫ জন শ্রমিক আমার কাছে চেয়েছিলেন। তালিকাও করেছি। কিন্তু তাঁরা আর তালিকা নেননি। এখন দেখছি, তাঁরা খাল খননের কাজ ভেকু দিয়েই করছেন।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। দপ্তরে কয়েকবার গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামও ফোন ধরেননি।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. বাবুল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খাল খননের বিষয়ে ইউএনও বা পিআইও বিস্তারিত কিছুই বলেননি আমাদের। রামজীবন ও শ্রীপুর ইউনিয়ন থেকে ১২৫ করে ২৫০ জন শ্রমিকের নাম চেয়েছেন মাত্র।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন এবং শ্রমিক—দুটো দিয়েই কাজ করার অনুমতি নেওয়া আছে। এখন ভেকু দিয়ে করা হচ্ছে। পরে শ্রমিক দিয়ে বাকি কাজ করা হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাজেদুর রহমান শ্রমিক বিভাজনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি ক্লিয়ার হওয়ার জন্য আমি ইউএনও এবং পিআইওর সাথে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, ভেকু দিয়ে নাকি কাজ করা যাবে।’

কাম কইললে ভালোই হইলো হয়। কিন্তু গরিবের হক ওমরা এখন মারি খাইবে।’

সুনীল চন্দ্র দাশ (৯০) বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে জীবন-জীবিকার অবলম্বন এই খাল। একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ এখন অনেক কমে গেছে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’ তবে ভেকু দিয়ে খনন করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় শ্রমিকের তালিকায় নাম থাকা মো. আনিছুর রহমান, মো. আবু বক্কর সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, ‘শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মাসখানেক আগে ভোটার আইডি ও মোবাইল নাম্বার নিয়েছেন। এর বেশি কিছু জানেন না তাঁরা।’

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভেকু দিয়ে মাটি খননের কাজ চলছে। পরে শ্রমিক দিয়ে করা হবে। এখানে চারটি ভেকু কাজ করছে।’

রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামছুল হুদা সরকার বলেন, ‘আমাকে একদিন এমপি মহোদয় এবং পিআইও ডেকেছিলেন এ বিষয়ে। বলেছিলেন, শ্রমিক লাগবে মোট ৬৬০ জন। এর মধ্যে বিএনপি দেবে ১২৫, জামায়াত দেবে ১২৫, এমপি মহোদয় দেবেন ৭৫ জন শ্রমিক। বাকি ৩৩৫ জন শ্রমিক আমার কাছে চেয়েছিলেন। তালিকাও করেছি। কিন্তু তাঁরা আর তালিকা নেননি। এখন দেখছি, তাঁরা খাল খননের কাজ ভেকু দিয়েই করছেন।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। দপ্তরে কয়েকবার গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামও ফোন ধরেননি।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. বাবুল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খাল খননের বিষয়ে ইউএনও বা পিআইও বিস্তারিত কিছুই বলেননি আমাদের। রামজীবন ও শ্রীপুর ইউনিয়ন থেকে ১২৫ করে ২৫০ জন শ্রমিকের নাম চেয়েছেন মাত্র।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন এবং শ্রমিক—দুটো দিয়েই কাজ করার অনুমতি নেওয়া আছে। এখন ভেকু দিয়ে করা হচ্ছে। পরে শ্রমিক দিয়ে বাকি কাজ করা হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাজেদুর রহমান শ্রমিক বিভাজনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি ক্লিয়ার হওয়ার জন্য আমি ইউএনও এবং পিআইওর সাথে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, ভেকু দিয়ে নাকি কাজ করা যাবে।’

ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্প: নদী থেকে বালু তোলায় তীর ভাঙনের শঙ্কা

তর্কের জেরে বন্ধুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা দুই কিশোরের

গাইবান্ধার সাঘাটায় গরুর আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

গাইবান্ধায় চলন্ত ট্রেনের নিচে লাফিয়ে নারীর আত্মহত্যা: পুলিশ

প্রসবের পর রক্তক্ষরণ, চর পেরিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই থামল ইউপি সদস্যের জীবন

করতোয়া নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধায় ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের চেষ্টা, ৬ জনকে পুলিশে সোপর্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস, যুবককে পুলিশে দিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোচালক নিহত, আহত ৮