গাইবান্ধায় রেলওয়ের জায়গা থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) গাইবান্ধা শহরের রেলস্টেশন থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান চালায় রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ।
তবে একই স্থানে কয়েক শ অবৈধ স্থাপনা রেললাইনের দুই পাশে ‘বিপজ্জনক’ সীমানায় রয়ে গেছে। সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। এ কারণে এই অভিযানকে অনেকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগে পাওয়া গেছে, এসব স্থাপনা গত ১৫ বছরে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবের নামে দখল করছেন। রেলবিধি অনুযায়ী রেললাইনের দুই পাশে বিপজ্জনক ঘোষিত ১৫ ফুটের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ গাইবান্ধা শহরে রেললাইন থেকে ১৫ ফুটের মধ্যে কয়েক শ স্থায়ী দোকান ও নামসর্বস্ব ক্লাব ও সংগঠন রয়েছে। শহরের কাউয়া চত্বর থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। এর মধ্যে রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগের লালমনিরহাটের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রভাবশালী মহল রেলওয়ে থেকে ইজারা নেওয়ার কাগজ তৈরি করে বিপৎসীমার মধ্যেই স্থায়ী মার্কেট, দোকানপাট ও ক্লাবঘর নির্মাণ করেছেন।
অভিযান চলাকালে রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুর হোসেন, গাইবান্ধা স্টোশনমাস্টার সুমিত চন্দ্র, সার্ভেয়ার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেন রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা।
গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সুমিত চন্দ্র বলেন, রেললাইনের দুই পাশে যেসব স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি, সেই জায়গা রেলওয়ের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া। তাই রেললাইনের দুই পাশে বিপজ্জনক স্থানে থাকলেও তা উচ্ছেদ করা যায়নি।