ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের বিদ্যুৎ সাবস্টেশন থেকে ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং তামার তার চুরি হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চুরির পর হাসপাতালের নতুন ভবনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে আইসিইউ, মেডিসিন, আইসোলেশন ও সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনেরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হাসপাতালের পেছনের দেয়াল টপকে সাবস্টেশনের ভেন্টিলেশন ফ্যান খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং তামার তার খুলে নিয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার সকালে চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডের আলো, ফ্যান ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিচালনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়।
আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষে পরীক্ষা করাতে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত ল্যাবে বিদ্যুৎ ছিল না। একদিকে গরম, অন্যদিকে পরীক্ষা করাতে দেরি হয়েছে। অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে।
মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী মাইশা আক্তার বলেন, ‘রাত ৩টা থেকে বিদ্যুৎ ছিল না। রোগীদের অনেক কষ্ট হয়েছে। পুরো হাসপাতাল যেন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছিল। অন্ধকারে ভয়ের মধ্যে ছিলাম, কখন কী হয়!’
সাবস্টেশনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বলেন, চোরেরা ট্রান্সফরমার ও বড় জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং সব তামার তার খুলে নিয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে সকালে মেরামতের কাজ শুরু করা হয় বলে জানান তিনি।
হাবিবুর রহমান বলেন, দুটি বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে একটি বেলা ১১টার দিকে ও অন্যটি বিকেল ৫টার দিকে চালু করা হয়।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নুরুননবী বলেন, পুরো হাসপাতালে রাতে একজন নাইটগার্ড পাহারায় থাকেন। সাবস্টেশনটি হাসপাতালের পেছনের দিকে হওয়ায় চুরির ঘটনা কারও দৃষ্টিগোচর হয়নি। বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রৌকন উদ দৌলা বলেন, ‘হাসপাতালের পেছনের দেয়াল টপকে চোরেরা সাবস্টেশনে প্রবেশ করে। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিষয়টি সকালে আমাদের নজরে আসে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।’
রৌকন উদ দৌলা বলেন, এর আগেও সাবস্টেশনটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতে একজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্বে থাকলেও তাঁকে ফাঁকি দিয়ে আবারও চুরি হয়েছে। ঘটনার পর সাবস্টেশন এলাকায় তিনজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, চোরেরা সব তামার তার নিয়ে গেছে। এর আগেও হাসপাতালের ভবন থেকে থাইগ্লাস, বাথরুমের কলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ফেনী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনিসুল হক বলেন, সাবস্টেশনটি গণপূর্ত বিভাগের অধীন হলেও এটি ব্যবহার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর নিরাপত্তার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, চুরির ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। চোর শনাক্ত ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।