ফেনী–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নকে কেন্দ্রকরে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার শহরের পৃথক স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামি ছাত্রশিবির এবং যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এই বিক্ষোভ সমাবেশ করে। কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
এর আগে ফেনী–৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিকেলে মিজান ময়দান থেকে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় জেলা ছাত্রশিবির।
একই সময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে শহরের সালাম কমিউনিটি সেন্টার থেকে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সময় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার বিকেল থেকে মিজান ময়দানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পরে ছাত্রশিবির শহরের ওয়াপদা মাঠ থেকে একটি মিছিল নিয়ে শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে গিয়ে সমাবেশ করে।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল বলেন, যারা ক্ষমতায় আসার আগে দেশের অর্থ লুটপাট করে ক্ষমতায় আসলে দেশের অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে সেটি মানুষ বুঝে গেছে। আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নথিতে মিন্টুর নাম পাওয়া গেছে। কোন প্রকারের শিশু নির্যাতনকারী ও নারী নিপীড়নের ঠিকানা এ বাঙলায় হবে না। ফেনীতে দীর্ঘদিন আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি করলেও ছাত্রদল আজ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে নোংরা খেলায় মেতেছে।’
একই সময়ে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা শহরের ট্রাংক রোডে অবস্থান নেন। সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে জহিরিয়া মসজিদ প্রদক্ষিণ করে ফায়ার সার্ভিসের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুন বলেন, আমরা শুধু ধৈর্য ধরে আছি। অপশক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরাই যথেষ্ট। দীর্ঘ ১৭ বছর কয়লায় পুড়ে আমাদের একেকজন নেতা কর্মী খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। ফেনী-৩ আসন থেকে ধানের শিষ নিয়ে যিনি নির্বাচন করছেন তিনি শুধু ফেনী নয়, সারা দেশের গর্ব। ওনার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে সেটির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার বলেন, জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে কর্মজীবী নারী ও বিএনপির নেতা কর্মীদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছে। তারা সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমাদের নেতা কর্মীরা অনেক ধৈর্য ধরেছে, সেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে একাত্তরের মতো আর পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মসূচির অনুমতির বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, কর্মসূচি শুরুর এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে আবেদন করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়াগত সময়ের অভাবে কাউকেই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।