বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ডিপ স্টেটকে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করা না গেলে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকা সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য শক্তি বা ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা শুরু করেছিলেন। ডিপ স্টেট সম্পর্কে মানুষ যত দিন সচেতন না হবে, তত দিন গণতন্ত্র কেবল অধিকারের বয়ানে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ইনসাফ অধরাই থেকে যাবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে মানুষের একটাই পরিচয় ছিল—তারা ছিল নির্যাতিত। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চললেও ন্যূনতম বাক্স্বাধীনতা পর্যন্ত ছিল না। আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই মানুষকে শিখিয়েছে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে জীবন দিয়ে হলেও সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে।
তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা কোনো ব্যক্তিগত দাবিদাওয়া করছেন না। তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা, যারা তাঁদের স্বজনদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
ফেনীতে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যাদের নেতৃত্ব দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের জন্য এখনো ঝুঁকি নেওয়া লজ্জাজনক। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, জুলাইয়ে কারা কী ভূমিকা পালন করেছে, তার তথ্য ছাত্র-জনতার কাছে রয়েছে। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও বৃহত্তর স্বার্থে সংযম দেখানো হয়েছে। তবে আবারও কোনো পেশিশক্তির প্রশ্রয় দেওয়া হলে ছাত্র-জনতা জুলাইয়ের মতোই তার জবাব দেবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এমন সব ধরনের ফ্যাসিবাদ ও নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত নেতা মেজবাহ সাঈদ। অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।