ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধর ও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অপহরণের শিকার বাহাউদ্দিন শেখ (৩৪) মিডল্যান্ড ব্যাংকের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর শাখার কর্মকর্তা এবং ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে ভাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন বাহাউদ্দিন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার তাঁর সামনে এসে থামে। চালক তাঁকে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তাব দিলে গাড়িতে থাকা আরও তিনজনকে যাত্রী ভেবে তিনি উঠে পড়েন।
গাড়িতে ওঠার দুই মিনিটের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা তাঁর মুখ বেঁধে মারধর শুরু করে। বাহাউদ্দিনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিকাশে টাকা পাঠালে বাহাউদ্দিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাহাউদ্দিন শেখ বলেন, ‘গাড়িতে ওঠার দুই মিনিটের মধ্যেই আমার মুখ বেঁধে মারধর শুরু করে তারা। হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। প্রথমে ঢাকার দিকে কিছুদূর গিয়ে গাড়িটি আবার ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরের দিকে যায়। পথে গ্রামের কাঁচা সড়কেও কিছুক্ষণ চালায়। পরে পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। টাকা পাওয়ার পর আমার মোবাইলের সিম খুলে নিয়ে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।’
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বাহাউদ্দিন শেখের বুক, হাত ও পায়ে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তাঁরা জানতে পেরেছেন। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।