সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য মিলে গড়ে তুলেছেন দেশব্যাপী ডাকাত চক্র ও অপরাধের নেটওয়ার্ক। বিভিন্ন বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তাঁরা। আজ বুধবার ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই দুই সদস্যসহ তিনজনকে। অপরাধের তথ্য যাচাইকালে তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডজনখানেক মামলার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ৷ তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার নান্দাহা গ্রামে। অপরজন সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। তিনি খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুরের মাজেদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটে। এ ছাড়া মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) নামের তাঁদের আরও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বিকেলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে একে একে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বলে পুলিশ সুপার জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসেরহাট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করেন তাঁরা। ওই সময় তাঁদের আরেক সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে ইজিবাইকের চালককে ফরিদপুর ডিবি অফিসে যেতে বলেন। কিন্তু পথিমধ্যে নির্জন জায়গায় এসে ইজিবাইকচালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যান তাঁরা।
এ ঘটনায় ইজিবাইকচালক শহিদুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ফরিদপুর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম মূল হোতা লিমন মিয়া ও তাঁর সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, লিমনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও বোয়ালমারী, রাজবাড়ীর পাংশা, মাদারীপুর সদর, ডিএমপির শ্যামপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১১টি চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র এবং মাদক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিএমপির শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানায় কমপক্ষে পাঁচটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গত ১২ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে ৷ ওই ঘটনায় একটি ইয়ামাহা মডেলের ১৮০ সিসির মোটরসাইকেল ও নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ ৬৪ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করেন তাঁরা। জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযানকালে ওই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং তাঁরা ডাকাতির ঘটনা স্বাকীর করেছেন বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, এই চক্রের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত। গ্রেপ্তার আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সে সঙ্গে তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।