হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

বরযাত্রাকে কেন্দ্র করে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি গ্রামে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বরযাত্রা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অন্ধকার হওয়ায় টর্চের আলো জ্বালিয়ে এই সংঘর্ষ চলে, যা ছড়িয়ে পড়ে অন্তত পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। এ সময় একটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় অন্তত ২৫টি বাড়িতে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি গ্রামে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভাবুকদিয়া ও আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া, খোয়ার, শলিয়া ও সেনহাটি গ্রামে।

জানা গেছে, গট্টি ও আটঘর ইউনিয়নকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের নুরু মাতুব্বর ও পাটপাশা বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তাঁরা দুজনেই একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

শুক্রবার স্থানীয় এক ব্যক্তির বিয়ের বরযাত্রাকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সরকি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এ সময় টর্চ জ্বালিয়ে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে তাঁদের মধ্যে। একপর্যায়ে বালিয়াগট্টি বাজার-সংলগ্ন নুরু মাতুব্বরের সমর্থক দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি গ্রামে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় একটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে জাহিদ মাতুব্বরকে সমর্থন জানিয়ে ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পদত্যাগকারী উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি পাভেল রায়হানের নেতৃত্বে পাশের আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোয়ালপাড়া গ্রামের গোলাম মহিউদ্দিন, যুবদল নেতা রব্বান মাতুব্বর, আটঘর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আলী, ইলিয়াস মাতুব্বর, মজিবুর শিকদার, সিরমান শিকদার, রবিউল শিকদার ও কুবাত শিকদারের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে নুরু মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তাঁর স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী জানান, নুরু মাতুব্বর বাড়িতে নেই। তিনি বলেন, ‘বিয়ের বরযাত্রী থেকে আমাদের লোকজনকে মারধর করে ওই পক্ষ। এরপরই রাতভর মারামারি হয়। এর বেশি আমি জানি না।’

অপরপক্ষের জাহিদ মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুর মেডিকেলে হামে মৃত্যু বেড়ে পাঁচ, ২০ এপ্রিল টিকা কার্যক্রম শুরু

গভীর রাতে মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘরে পুলিশ কর্মকর্তা, এলাকাবাসীর পিটুনি

ফরিদপুরে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস উল্টে খাদে, দুজন নিহত

ফরিদপুরে দুই নারীসহ ৮ মাদক কারবারি আটক, গাঁজা-ইয়াবা উদ্ধার

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

গাছের ডালে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ, গলার উল্টো পাশে ছিল ফাঁস

ফরিদপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারি মামলায় ছয় আসামিকে অব্যাহতি

ফরিদপুরে শতাধিক ভূমিহীন কৃষকের ভুট্টাখেত দখলের অভিযোগ

ফরিদপুরে ৮ গ্রামবাসীর মধ্যে ৬ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক সংঘর্ষ, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত শতাধিক