ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয় দিন পর এক শিশুর (৭) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার কাফুরা রেললাইনের পাশে কলাবাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিশুটি সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা । সে ওই এলাকার স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থী।
এদিকে মেয়ের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার মা। কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। জ্ঞান ফিরে এলেই বলছেন, ‘আমার কবিতারে আমার বুকে আইন্যা দে। আমি কেন ওর কাছে গেলাম না।’
তাঁর আহাজারিতে উপস্থিত লোকজন চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। কোনো সান্ত্বনাতেই থামছে না শিশুটির মায়ের আহাজারি। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা যায়, ২৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয় শিশুটি। অনেক রাত হলেও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির বাবা।
নিখোঁজের ছয় দিন পর আজ এলাকার রেললাইনের পাশে কলাবাগানের মধ্যে একটি বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। মরদেহটি পরনের কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
শিশুর চাচা জানান, ২৪ এপ্রিল ভাতিজি নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরদিন তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। আজ সকালে কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি পচা গন্ধ পান। এগিয়ে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
প্রতিবেশী এক নারী বলেন, ‘গত ছয় দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় আমরা খুঁজেও আইরিনকে পাইনি। আজ সকালে কলাগাছ কাটতে গিয়ে স্থানীয়রা মরদেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে গিয়ে দেখি— মরদেহ পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেছি, আমরা ধারণা করছি, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তার জামা দিয়ে মুখ বাঁধা ছিল।’ এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না, তা রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। খুব দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব বলে আশা করছি।’