হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে দেড় শ টাকায়ও মিলছে না ডিজেল, ফসল উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ধান, পাট, ভুট্টাসহ সবজিখেতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চলমান জ্বালানি সংকটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ফরিদপুরের কৃষি খাতে। জেলায় ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ধান, পাট, ভুট্টা, তিলসহ চলতি মৌসুমের ফসল পরিচর্যায় ব্যাঘাত ও উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কেনায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় বোরো ধান, পাট ও ভুট্টা পরিচর্যায় বড় ধরনের প্রভাব দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে (২০২৫-২৬ অর্থবছর) জেলায় ২৩ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টরে পাট, ৬ হাজার ৩ শ হেক্টরে তিল এবং ৫ হাজার ২ শ হেক্টরে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এসব ফসলে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হলেও হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ পরিচর্যার জন্য চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল-ডিজেল পাচ্ছেন না তাঁরা। এ ছাড়া জমি খোঁড়ার জন্য পাওয়ার টিলার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের।

জেলার একাধিক কৃষকের ভাষ্যমতে, বিঘাপ্রতি পাটের জমি সেচের ক্ষেত্রে ৩ লিটার (প্রতিবার), বোরো ধানের ক্ষেত্রে দৈনিক ৫ লিটার এবং ভুট্টায় প্রতিবার ২ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া খোলাবাজার থেকে লিটারপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় ডিজেল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। তাতে লিটারপ্রতি অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

৪ কিলোমিটার দূর থেকে ৪০ টাকা যাতায়াত খরচ দিয়ে ফরিদপুর শহরের জেকে ফিলিং স্টেশনে ডিজেল তেল নিতে এসেছিলেন চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের তুহিনমণ্ডলের ডাঙ্গি এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন শেখ। তিনি চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান ও ৩ বিঘায় পাটের আবাদ করেছেন। সেই হিসাবে বোরো ধানের জন্য প্রতিদিন ৬ লিটার ও পাটে সেচপ্রতি ৯ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। কিন্তু পাম্প থেকে তাঁকে মাত্র ২ লিটার ডিজেল তেল দেওয়া হয়েছে।

আলাউদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘পাম্প থেকে ২ শ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। এলাকা থেকে তেল কিনতে গেলে ১৩০ টাকা করে লিটার কিনতে হয়। এজন্য এত দূর থেকে এই পাম্পে এসেছি। অথচ চাহিদার অর্ধেক তেলও পেলাম না। অনেক অনুরোধ করেছিলাম।’

চলতি বছরে ১০ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের ধুতরাহাটি গ্রামের আমিরুল মোল্যা। তিনি বলেন, ‘পাটের খেতে পানি দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে, ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। পাম্পে গেলে বলে তেল নাই। আর দোকান থেকে কিনলে ১৫০ টাকা লিটার নিচ্ছে। তাও আবার ৫ লিটারের বেশি দিচ্ছে না।’

আমিরুল মোল্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রোদে পাটে ঠিকমতো পানি না দিতে পারলে গাছ মরে যাবে। সরকারের উচিত আগে ফসল বাঁচানো। অন্য জায়গায় ডিজেল কম দিয়ে কৃষকদের ঠিকমতো ডিজেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. রইচ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে উৎপাদন হ্রাস হচ্ছে—এমন কথা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে এ ধারা অব্যাহত থাকলে পাট, বোরো ধান ও তিল চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে মাটি শুকিয়ে পাটের চারা মরে যেতে পারে এবং আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়ে তা হ্রাস পেতে পারে।’

এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মনিটরিং সেলের দৈনিক জ্বালানি তেলের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলার ৪২টি ফিলিং স্টেশনে গত ২৪ ঘণ্টায় ডিপো থেকে ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭১ লিটার ডিজেল, ৬৫ হাজার ৬৩১ লিটার পেট্রল ও ৪৯ হাজার লিটার অকটেন এসেছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল নাগাদ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন তেলশূন্য হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে যে পরিমাণ ডিজেল পেয়েছি, তা ভোর হওয়ার আগেই শেষ হয়েছে। কারণ সিরিয়ালে থাকা গাড়িগুলোকে রাতেই ডিজেল দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃষিজমি সেচের জন্য তেলের যে চাহিদা রয়েছে, সে চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে আমাদের তেল না দিলে কৃষককে দেব কীভাবে। এ ছাড়া চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ তেল আসায় পরিবহন খরচও দ্বিগুণ বেড়েছে।’

অন্যদিকে খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কেনার জন্য তেল বিক্রির এজেন্সিগুলোকে দায়ী করে তিনি বলেন, এজেন্সিরাই ডিজেল পেয়ে থাকে; তারাই মূলত খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। যে কারণে কৃষকদের দেড় শ টাকা দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে। এই এজেন্সি ও খোলাবাজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হতে হবে এবং বড় ধরনের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘খোলাবাজারে তেল বিক্রি বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।’

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রথম শিশুমৃত্যু

চকলেট কিনতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যমজ ২ শিশু নিহত

ড্রামে তেল না দেওয়ায় হামলা, অনির্দিষ্টকালের জন্য দুই ফিলিং স্টেশন বন্ধ

টাকা ধার না দেওয়ায় খালাকে হত্যার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলেন ভাগনে: পুলিশ

ফরিদপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দুই পাম্পে অভিযান চালিয়ে মিলল ৫৪ হাজার লিটার তেল

নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে মিলল নারীর লাশ

ফরিদপুরে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা, আ.লীগ নেতা আটক

শেখ হাসিনাসহ সব দণ্ডপ্রাপ্তকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী