ফরিদপুরে নিখোঁজের ১১ দিন পর মাটিচাপা অবস্থায় মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা যতিনবদ্দি এলাকার একটি পুকুরের পাড় থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ দুটি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কর্ণসোনা গ্রামের ইটভাটার শ্রমিক আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও মেয়ে সামিয়া আক্তারের (৪)।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৪ মে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য বের হন মা-মেয়ে। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাঁরা। এই ঘটনায় গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন স্বামী আমজাদ শেখ।
আজ বেলা ৩টার দিকে ফরিদপুরের ওই এলাকায় মাটির নিচ থেকে একটি পা টেনে বের করে কুকুরের দল। এরপর স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে গোয়ালন্দ থানা-পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে প্রথমে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাঁর নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যায় সুরতহাল করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। এ ছাড়া খবর পেয়ে আমজাদ শেখ ও তাঁর বাবা আব্দুর রব শেখ এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
স্বামী আমজাদ শেখ বলেন, ‘স্ত্রীসহ আমি একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। গত ৪ তারিখে আমার ফুফাতো ভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য ওরা বের হয়েছিল। এরপর বাড়িতে ফিরে না আসায় মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে পাইনি। পরে থানায় গিয়ে জিডি করেছিলাম।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হওয়া এলাকায় রাত হলেই মাদক ও জুয়ার আসর বসে। স্থানটি দুই জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় প্রতিনিয়ত এমন আসর বসে থাকে। তাঁদের ধারণা, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, প্রথমে অজ্ঞাত অবস্থায় মরদেহ দুটি পাওয়া যায়। পরে পরিবার এসে নিশ্চিত করেছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।