ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নিখোঁজের দুই দিন পর তৌহিদ মিয়া নামে এক যুবকের মরদেহ পাটখেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের একটি পাটখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তৌহিদ মিয়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ছেলে। তিনি একটি জাহাজে চাকরি করতেন। ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে কয়েক দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুন) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তৌহিদ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক পাটখেতে কাজ করতে গিয়ে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে তৌহিদকে শনাক্ত করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমবার রাত ১২টার পর থেকে তৌহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কিছু মাদকসেবী বন্ধুর সঙ্গে চলাফেরা ছিল। আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।