হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে শরিফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন এবং অপর একটি মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে সাহেদ আলী মৃধা (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অভিযুক্ত যুবক পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং বৃদ্ধকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন কিশোরীর বাবা। পরবর্তী সময়ে ১৪ অক্টোবর ওই কিশোরী ফোন করে পরিবারকে জানায়, তাকে অপহরণ করে ঢাকায় একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর ১৫ অক্টোবর কৌশলে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। এ সময় কিশোরীর সঙ্গে শরিফুল ইসলাম নামে ওই যুবককে দেখতে পান তাঁরা। পরবর্তী সময়ে ওই কিশোরী জানায়, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর শরিফুল ইসলামকে আসামি করে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন তাঁর বাবা।

এ মামলায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তোফাজ্জেল হোসেন। এ মামলায় দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে একটি ধারায় অপহরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপর ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম পাবনা জেলার আতাইকুলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের শাহাদাৎ শেখের ছেলে। সে সম্পর্কে ভুক্তভোগী কিশোরীর সৎফুফা। রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং দুটি সাজাই একসঙ্গে চলবে বলে আদালত জানায়।

এ ছাড়া অপর মামলার বিষয়ে আদালত সূত্রে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল ১১ বছরের এক কিশোরী। প্রতিদিনের মতো ২০২৪ সালের ২৭ জুন অপর দুই সহপাঠীর সঙ্গে রাতে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে সে। রাত ১টার দিকে কক্ষে প্রবেশ করে তিনজন কিশোরীকে কৌশলে পার্শ্ববর্তী রান্নাঘরে নিয়ে যায় ওই বৃদ্ধ।

এ সময় তিনজনকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে অপর দুজন দৌড়ে চলে আসে এবং ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় ৭ জুলাই মধুখালী থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষার্থীর মা। ওই মামলায় ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুটি রায়ের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন। তিনি বলেন, দুটি রায়েই রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ইজিবাইক ছিনতাই: চাকরিচ্যুত পুলিশ-সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরে এলপিজি ডিলারসহ তিন প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

ফরিদপুরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ, মুক্তিপণ নিয়ে ফেলে গেল সড়কের পাশে

ফরিদপুরে বিলের পাশ থেকে দুই চোখ ওপড়ানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগতিতে চলছিল দুটি মোটরসাইকেল, সংঘর্ষে নিহত ২

মধুখালীতে কিশোরীর মৃত্যু: দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পরিবারের, মামলা না নেওয়ার দাবি

মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

ফরিদপুরে শয্যাশায়ী বৃদ্ধকে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, জিডি

আদালত চত্বর থেকে যুবককে তুলে নিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু: তদন্তে মুক্তিপণ আদায়কারীকে অব্যাহতি