ফরিদপুরের সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কৃষক দলের কার্যালয়সহ অন্তত আটটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মাতুব্বর আর অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেমায়েত মাতুব্বর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হেমায়েত মাতুব্বরের একটি জমি ক্রয় করেন ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদার। জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে দুপুরে থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে সালিসে বসে দুপক্ষ এবং একপর্যায়ে জমি মাপার সময়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় হেমায়েত মাতুব্বরের লোকজন কৃষক দল নেতা ফারুক মাতুব্বরের সমর্থকদের আটটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। হামলায় গুরুতর আহত আব্বাস মাতুব্বর (২৭), আসাদ (২৭), পিকুল মাতুব্বর (৫৪) ও লিটন মীরকে (৩৫) উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁরা কাগদী বাজারে ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানতে চাইলে ফারুক মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, ‘হেমায়েত মাতুব্বর একটি জমি বাচ্চু চোকদারের কাছে বিক্রি করেন, কিন্তু জমি বুঝিয়ে দিচ্ছিল না। যার কারণে আজ পুলিশের উপস্থিতিতে সালিস হয়েছিল এবং আগামী সোমবার মাপজোখের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে হেমায়েত মাতুব্বরের ভাই ফয়সাল মাতুব্বর, আসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন এসে ঝামেলা করে। একপর্যায়ে তারা আমার লোকজনকে ধাওয়া দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।’
অপর দিকে হেমায়েত মাতুব্বর বলেন, ‘আজকে কী হয়েছে, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং আমি জড়িতও নই।’
এ বিষয়ে সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। একপর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।