ফরিদপুরের মধুখালীতে কামারের দোকানের আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে যৌথ বাহিনী। কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপগান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, ২টি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার, হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বাদল সরকার (৫২) নামের এক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রিকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প। এদিন সন্ধ্যায় উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামে গোপনে গড়ে তোলা অস্ত্রের কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। মধুখালী সেনা ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে আটক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি বাদল ডুমাইন গ্রামের মৃত নিতাই সরকারের ছেলে।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন এলাকায় দেশীয় অস্ত্র প্রস্তুত ও সরবরাহ নিয়ে সম্প্রতি মধুখালী সেনা ক্যাম্পে একাধিক অভিযোগ আসে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাদল সরকার নিজের ওয়ার্কশপে নিয়মিত অস্ত্র তৈরি করেন। ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তরা তাঁর বানানো অস্ত্র দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেও কয়েক দফায় বাদল সরকারকে আটক করতে চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দুর্বৃত্তরা তাঁর কাছে অস্ত্র তৈরির অর্ডার দিয়েছে বলে খবর জানা গেছে। এতে ফরিদপুরে জনমনে নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, আটক বাদল সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তাঁকে মধুখালী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। আটক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।